• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

ভোলায় নদীপথে পাচারের চেষ্টা, জব্দ ২৯০ বস্তা সরকারি সার গোডাউনে রেখে সিলগালা, তদন্তের নির্দেশ প্রশাসনের

মুক্ত টিভি কৃষি নিউজ / ৯৪ সময় দৃশ্য
আপডেট : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

ভোলায় নদীপথে পাচারের চেষ্টাকালে ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো উদ্ধার করে একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। আটক সারের মধ্যে রয়েছে ১৮০ বস্তা ডিএপি ও ১১০ বস্তা টিএসপি। তবে এসব সার কোথা থেকে এবং কার মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাকারমাথা এলাকার দারোগার খালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে একটি নসিমনে করে সার এনে খালে আগে থেকে নোঙর করা একটি ট্রলারে তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কৃষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সারের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সারগুলো আটকে দেন কৃষকেরা।

পরে বুধবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে সারগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করে।
ট্রলারের লোকজনের দাবি, ভোলার স্থানীয় এক সার ডিলারের কাছ থেকে এসব সার কিনে চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকির সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে নির্ধারিত দামে বিক্রি না করে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দীন ফরাজি অভিযোগ করেন, ভোলায় সারের সংকট না থাকলেও প্রকৃত কৃষকেরা সরকারি ভর্তুকির সার পাচ্ছেন না। প্রয়োজনের তুলনায় কম সার বরাদ্দ দেওয়ার কারণে কৃষকদের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া আটক ২৯০ বস্তা সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এখানে আনা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই কৃষক নেতা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সারগুলো ভোলা সদর উপজেলা ও বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। সেখানে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকেরা সারগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে কেউ সার উত্তোলন করেছেন কি না, তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস জানান, আটক সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাই সার উদ্ধার করে একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন:


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর

সার্চ করুন


ক্যাটাগরি


আর্কাইভ