আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন পরিচিতি অর্জন করেছেন ভোলার তরুণ উদ্যোক্তা শরীফুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি ‘অরেঞ্জ কর্নারস বাংলাদেশ’-এর ‘কোহর্ট ৭’ সফলভাবে সম্পন্ন করে গ্র্যাজুয়েশন অর্জনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ‘অ্যালুমনি অ্যাম্বাসেডর’ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
গত ২ নভেম্বর ঢাকায় নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে গ্র্যাজুয়েশনের সনদ তুলে দেন ডাচ উপ-রাষ্ট্রদূত ইয়ানা ফান ডের লিন্ডেন।
শরীফুল ইসলাম ভোলাভিত্তিক কৃষি প্রতিষ্ঠান ‘ফরাজি অ্যাগ্রো লাইভস্টক লিমিটেড’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। কৃষিকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটি ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০০ একর জমিতে সমন্বিত পদ্ধতিতে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, শসা, সরিষা ও সয়াবিনসহ ১৪ থেকে ১৫ ধরনের উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন করছে। পাশাপাশি মহিষসহ বিভিন্ন প্রাণিসম্পদ পালন এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ থেকে জৈব সার উৎপাদন, তরমুজ থেকে গুড় ও পাল্প তৈরির মতো উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুধু কৃষি উৎপাদন নয়, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখছে এই উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যাঁদের মধ্যে শতাধিক নারী রয়েছেন। স্থানীয় তরুণদের কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে প্রথাগত কৃষিকে আধুনিক ও বাণিজ্যিক রূপ দেওয়াই শরীফুল ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য।
‘কোহর্ট ৭’ সফলভাবে সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাজি অ্যাগ্রো ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য যোগ্যতাসাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ইউরো অনুদান এবং ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্সিং’ সুবিধা পাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজের এই অর্জন সম্পর্কে শরীফুল ইসলাম বলেন, “এটি আমার জন্য নতুন দায়িত্বের সূচনা। ভোলার চরাঞ্চলের বিপুল কৃষি সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক দরবারে তুলে ধরাই আমার মূল লক্ষ্য।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শরীফুল ইসলামের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভোলার কৃষি ও চরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।